অনলাইন ডেস্ক ।।
আত্ম-যত্ন: সুস্থ জীবনের প্রথম শর্ত
২৪ জুলাই আন্তর্জাতিক আত্ম-যত্ন দিবস
প্রতিদিনের ব্যস্ততা, কর্মজীবনের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং প্রতিযোগিতামূলক জীবনের ভিড়ে আমরা প্রায়ই নিজের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি ভুলে যাই। অথচ সুস্থ, কর্মক্ষম ও সুখী জীবন গড়তে আত্ম-যত্ন কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি মৌলিক প্রয়োজন। এই উপলব্ধি থেকেই প্রতি বছর ২৪ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক আত্ম-যত্ন দিবস।
আত্ম-যত্ন বলতে শুধু অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াকে বোঝায় না। বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকাও আত্ম-যত্নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন মানুষ নিজের যত্ন নিলে তিনি শুধু নিজেই সুস্থ থাকেন না, পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং সমাজেও ইতিবাচক অবদান রাখতে পারেন।
বর্তমান সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। উদ্বেগ, বিষণ্নতা, একাকীত্ব এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ অনেক মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে। অথচ এসব বিষয়ে সচেতনতা এখনও পর্যাপ্ত নয়। তাই শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে পরিবার, বন্ধু কিংবা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে দ্বিধা করা উচিত নয়।
বাংলাদেশেও ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ অসংক্রামক রোগের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব রোগের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও আত্ম-যত্নের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত হাঁটা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান ও মাদক থেকে বিরত থাকা এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা জীবনকে অনেক বেশি নিরাপদ করতে পারে।
আত্ম-যত্নের সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতারও সম্পর্ক রয়েছে। সুস্থ মানুষই একটি সুস্থ পরিবার ও উৎপাদনশীল সমাজ গড়ে তুলতে পারে। তাই আত্ম-যত্নকে ব্যক্তিগত অভ্যাসের পাশাপাশি জাতীয় স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
আন্তর্জাতিক আত্ম-যত্ন দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নিজের প্রতি যত্ন নেওয়া কোনো স্বার্থপরতা নয়। বরং এটি নিজের, পরিবারের এবং সমাজের প্রতি একটি দায়িত্ব। প্রতিদিন যদি আমরা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি, তাহলে একটি সুস্থ, সচেতন ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের পথ আরও সহজ হবে।
নিজের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন, অন্যকেও সুস্থ থাকতে উদ্বুদ্ধ করুন। এটাই হোক আন্তর্জাতিক আত্ম-যত্ন দিবসের অঙ্গীকার।
