বাঞ্ছারামপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং বিপদ মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করার প্রত্যয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, অগ্নিনির্বাপণ মহড়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি নেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল এমরান খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাবেয়া সুলতানা ইভা এবং বাঞ্ছারামপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আবু জাফর তালুকদার। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত র্যালিতে দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা ও প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অগ্নিনির্বাপণ মহড়া প্রদর্শন করেন। মহড়ায় আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কৌশল, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের ব্যবহার এবং জরুরি অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেওয়া হয়।
পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কতা, পরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং জনসম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা দুর্যোগের সময় আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া এবং উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। এ জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্যোগের আগে, চলাকালে ও পরে কী করণীয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। সরকারি দপ্তর, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণ একসঙ্গে কাজ করলে দুর্যোগ মোকাবিলা আরও কার্যকর হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।











