বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

কল্যাণমুখী ব্যাংকিংয়ে আস্থা বাড়াতে মাসব্যাপী ‘ইসলামী ব্যাংক’ এর গ্রাহকসেবা কার্যক্রম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৯ এএম
কল্যাণমুখী ব্যাংকিংয়ে আস্থা বাড়াতে মাসব্যাপী ‘ইসলামী ব্যাংক’ এর গ্রাহকসেবা কার্যক্রম
google news দৈনিক নিউজ পোর্টাল এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার বাঞ্ছারামপু‌রে কল্যাণমুখী ব্যাংকিংয়ের অগ্রযাত্রায় গড়ি আগামীর বাংলাদেশ, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মাসব্যাপী গ্রাহকসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাঞ্ছারামপুর শাখায় গ্রাহক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি বাঞ্ছারামপুর  শাখার ম‌্যা‌নেজার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপ‌স্থিত ছি‌লেন উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তা‌রিকুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাঞ্ছারামপুর‌ প্রেসক্লা‌বের সাধারণ সম্পাদক মো.শামীম শিবলী, উপ‌জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একেএম ভি‌পি মুসা, ইসলামী হাসপাতা‌লের ব‌্যবস্থাপনা প‌রিচালন একেএম মোশারফ হো‌সেন রিপন, অধ‌্যক্ষ মোহাম্মদ হা‌বিবুর রহমান, সা‌বেক প্রধান শিক্ষক দুধ মিয়া, অধ‌্যক্ষ রুহুল আমিন আব্দুল্লাহ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনিয়র অফিসার মো. রেজাউল ক‌রিম।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক সবসময় গ্রাহকবান্ধব ও কল্যাণমুখী ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি গ্রাহকদের নিরাপদ ও সহজ লেনদেনের সুযোগ সম্প্রসারণে ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তিনি প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো হলে ব্যক্তি, পরিবার এবং দেশের অর্থনীতি সমানভাবে উপকৃত হয়।

প্রধান অতিথি তা‌রিকুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং জনবান্ধব ব্যাংকিং কার্যক্রম দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইসলামী ব্যাংকের এ ধরনের উদ্যোগ গ্রাহকদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথি মো. শামীম শিবলী বলেন, গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি ব্যাংক মানুষের আস্থা অর্জন করে। ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকসেবা মাসের মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে সহায়ক হবে। তিনি প্রবাসী আয় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠাতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করার ওপরও কোন ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার গুরুত্বারোপ করেন।

আরও উপ‌স্থিত ছিলেন ১২ নং উজানচর ইউ‌নিয়‌নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বি‌শিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজ‌সেবক জনাব মো: না‌ছির উ‌দ্দিন (মুন্সী), মাওলানা মা‌জেদুল ইসলাম, সি‌দ্দিকুর রহমান প্রমুখ।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নতুন অঙ্গীকার : ACMO-এর কেন্দ্রীয় বোর্ড ও বিভাগীয় নেতৃত্ব ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ এএম
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নতুন অঙ্গীকার : ACMO-এর কেন্দ্রীয় বোর্ড ও বিভাগীয় নেতৃত্ব ঘোষণা

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন Anti Child Marriage Organization (ACMO) ২০২৬২০২৭ মেয়াদের নতুন কেন্দ্রীয় বোর্ড বিভাগীয় নেতৃত্বের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনটি দেশব্যাপী শিশু বিবাহ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, এবারের কেন্দ্রীয় কাঠামোতে মোট ২৩ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে সদস্যের কেন্দ্রীয় বোর্ড এবং ৪টি বিভাগে ১৬ জন বিভাগীয় পরিচালক দায়িত্ব পালন করবেন। দক্ষতা, অভিজ্ঞতা নেতৃত্বের ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে, যা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত, কার্যকর গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় বোর্ডে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আব্দুল্লাহ আল শিহাব। সহসভাপতি হৃদ্ধিকা চাকমা, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফাহিম ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিন আলম আম্মান, অর্থ সম্পাদক জাবিন তাসমিন এবং নির্বাহী সদস্য হিসেবে থাকবেন মোঃ শোয়াইব তালুকদার হৃদিকা রায় অর্পিতা।

যোগাযোগ সমন্বয় বিভাগ (CCD)-এর বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইহাদুল ইসলাম জিদান। বিভাগের সদস্যরা হলেন জারিফ আল জয়, মুশফিকা তাসনিন জাফিন মুনতাসির মাহমুদ।

আইটি মিডিয়া বিভাগ (IMD)-এর বিভাগীয় প্রধান মোঃ এবনুল হোসেন রাহাত। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সোহাইল আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন মাহির আহনাফ প্রতীক।

নারী শিশু কল্যাণ বিভাগ (WCWD)-এর বিভাগীয় প্রধান নাজিয়া তাসনিম। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মুনিরা মুক্তি, এলমা আক্তার জামিউল হাসান আরাফ।

 

অ্যাডভোকেসি সচেতনতা বিভাগ (AAD)-এর বিভাগীয় প্রধান অয়ন বসু। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মোঃ এম. হাসান সরকার, আবিদ হাসান মোঃ নাদিম মাহমুদ।

সংগঠনটির জন্মের পেছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে মাত্র ১৪ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নূর নাহার বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে অমানবিক নির্যাতনের ফলে মৃত্যুবরণ করেন। পড়াশোনা করে নিজের জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখা একটি কিশোরীর এমন মর্মান্তিক পরিণতি সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই একদল সচেতন প্রতিবাদী তরুণ শিশু বিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ মার্চ ২০২২ সালে Anti Child Marriage Organization (ACMO) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেবাল্যবিয়ে মুক্ত বাংলাদেশ গড়াস্লোগানকে সামনে রেখে।

সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য হলো শিশু বিবাহের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ শিশু কিশোরকিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তরুণদের সম্পৃক্ত করে একটি টেকসই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ, ক্যাম্পেইন ডিজিটাল অ্যাডভোকেসি পরিচালনা করা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজন, নীতিনির্ধারক সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিশু বিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখাও সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য।

বর্তমানে ACMO দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কমিউনিটি আউটরিচ, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশমূলক নানা উদ্যোগ পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, “বাল্যবিয়ে কোনো সংস্কৃতি নয়; এটি একটি সামাজিক অপরাধ।এই অপরাধমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি তরুণ, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যেতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন কেন্দ্রীয় বোর্ড বিভাগীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ে আগামী দিনে শিশু বিবাহ প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।

বাঞ্ছারামপুরে জুলাই শহিদ দিবস পালিত, আলোচনা সভায় শ্রদ্ধা নিবেদন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪১ এএম
বাঞ্ছারামপুরে জুলাই শহিদ দিবস পালিত, আলোচনা সভায় শ্রদ্ধা নিবেদন

বাঞ্ছারামপুরে জুলাই শহিদ দিবস পালিত, আলোচনা সভায় শ্রদ্ধা নিবেদন

বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি

জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। শহিদদের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

আলোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ তারিকুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রবিউল হাসান ভূঁইয়া, বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রঞ্জন বর্মণ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ নকিবুল হুদা, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল করিম, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোঃ দুধ মিয়া, গণসংহতি আন্দোলনের উপজেলা সমন্বয়ক মোঃ শামীম শিবলী, বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোল্লা মোঃ নাসির আহমেদ, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক কাজী মোঃ লিটন মিয়া, এনসিপির উপজেলা সমন্বয়ক মোঃ মাইনুদ্দিন, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাকির হোসাইন এবং খেলাফত মজলিসের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বাছির উদ্দিন।

এ সময় জুলাই আন্দোলনে আহত মোঃ আজিজুল এবং শহিদ পরিবারের সদস্যরাও তাদের অনুভূতি ও স্মৃতিচারণ তুলে ধরেন। বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শহিদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী প্রোগ্রামার ফজিলাতুননেছা।

আন্তর্জাতিক দাবা দিবস: মেধা, ধৈর্য ও কৌশলের অনন্য পাঠ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৬ এএম
আন্তর্জাতিক দাবা দিবস: মেধা, ধৈর্য ও কৌশলের অনন্য পাঠ

সম্পাদকীয়

আন্তর্জাতিক দাবা দিবস: মেধা, ধৈর্য ও কৌশলের অনন্য পাঠ

প্রতি বছর ২০ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক দাবা দিবস। ১৯২৪ সালের এই দিনে আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশন (FIDE) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই স্মরণে জাতিসংঘের স্বীকৃতিতে দিবসটি আজ বিশ্বজুড়ে মেধা, কৌশল ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রতীক হিসেবে পালিত হচ্ছে।

দাবা শুধু একটি খেলা নয়, এটি চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের এক অনন্য বিদ্যালয়। একটি দাবার বোর্ডে ৬৪টি ঘর এবং ৩২টি ঘুঁটির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে পরিকল্পনা, ধৈর্য, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা। জীবনের মতোই দাবায় প্রতিটি পদক্ষেপ ভেবেচিন্তে নিতে হয়। একটি ভুল চাল যেমন পুরো খেলাকে বদলে দিতে পারে, তেমনি জীবনের ভুল সিদ্ধান্তও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মনোযোগের ঘাটতি ও অস্থিরতা বাড়ছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। এ অবস্থায় দাবা হতে পারে একটি কার্যকর মানসিক ব্যায়াম। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দাবা চর্চা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌক্তিক চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

বাংলাদেশেও দাবার জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের গ্র্যান্ডমাস্টার ও ফিদে মাস্টাররা সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে দাবা প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে এই খেলায় উৎসাহিত করা প্রয়োজন। কারণ একটি জাতির মেধাভিত্তিক উন্নয়নে খেলাধুলার পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চারও সমান গুরুত্ব রয়েছে।

আন্তর্জাতিক দাবা দিবসে আমাদের প্রত্যাশা, দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দাবা চর্চার পরিবেশ আরও বিস্তৃত হবে। নতুন প্রজন্ম মোবাইল ও ভার্চুয়াল বিনোদনের বাইরে এসে চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সৃজনশীলতার এই খেলায় আগ্রহী হবে। মেধাবী ও দূরদর্শী নাগরিক গঠনে দাবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দাবার বোর্ডে যেমন বিজয়ের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য ও কৌশল, তেমনি একটি সমৃদ্ধ জাতি গড়তেও প্রয়োজন সুপরিকল্পিত চিন্তা ও সঠিক সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক দাবা দিবস আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়।

— সম্পাদক
দৈনিক যায়দিন

×