বাঞ্ছারামপুরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদার অভিযোগ
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ঈমান আলীর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অরণ্য ডিজিটাল এগ্রো অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জামাল হোসেন মুকুল। একই সঙ্গে ঈমান আলীর বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কলেজ রোডে অবস্থিত নিজ প্রতিষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জামাল হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামাল হোসেন দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে যুবদল নেতা ঈমান আলী তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং জিম্মি করে কয়েক দফায় মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে আরও টাকা দাবি করা হলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপরই তার প্রতিষ্ঠান ও তাকে নিয়ে ঈমান আলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভে বিভিন্ন অভিযোগ ও কুৎসা প্রচার করেন বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে গত ৮ আগস্ট ঈমান আলী অরণ্য ডিজিটালসহ জামাল হোসেনকে নিয়ে ফেসবুক লাইভে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঈমান আলী। তার দাবি, জামাল হোসেন একজন প্রতারক এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ঈমান আলী বলেন, অরণ্য ডিজিটাল প্রতিষ্ঠার আগে বরগুনায় ‘মোনামী আল বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে। তার দাবি, বাঞ্ছারামপুরেও একই ধরনের কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করতেই তিনি ফেসবুক লাইভে কথা বলেছেন বলে জানান।
বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঈমান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা চলছে।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবু সাইদ বলেন, ঈমান আলীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অরণ্য ডিজিটালের জামাল হোসেন ও ঈমান আলীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অরণ্য ডিজিটালের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বরগুনার ‘মোনামী’ অধ্যায়ের কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে বাঞ্ছারামপুরে গত ছয় বছর ধরে অরণ্য ডিজিটাল এগ্রো অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক কাবিল হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।






