বাঞ্ছারামপুরে জুলাই আন্দোলনে আহতদের পাশে প্রশাসন: পেলেন ঘর ও অটোরিকশা

বাঞ্ছারামপুরে জুলাই আন্দোলনে আহতদের পাশে প্রশাসন: পেলেন ঘর ও অটোরিকশা
বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত দুই যুবকের জীবনসংগ্রামে ত্রাতা হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস স্মরণে আয়োজিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে এই দুই যুবকের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ আমীর হোসেনকে একটি নতুন বসতঘর এবং চোখে স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানো আজিজুল হককে একটি অটোরিকশা উপহার দেওয়া হয়েছে।
‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলা মিলনায়তনে গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানেই তাদের হাতে এই উপহার তুলে দেওয়া হয়।
আন্দোলন চলাকালে ঢাকার রামপুরায় পুলিশের ধাওয়ার মুখে বহুতল ভবনের কার্নিশে ঝুলে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন আমীর হোসেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তার পায়ে গুলি লাগে। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। পঙ্গুত্ব বরণ করে গ্রামে ফিরলেও তার মাথা গোঁজার মতো কোনো নিরাপদ আশ্রয় ছিল না। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছিল তার পরিবারের। প্রশাসন নিজ উদ্যোগে এই যুবকের জন্য একটি নতুন বসতঘর নির্মাণ করে দিয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের ছোড়া ছররা গুলির স্প্লিন্টার চোখে বিদ্ধ হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারান আজিজুল হক। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অসহায়ত্বে দিন কাটছিল তার।
অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত আজিজুল হক বলেন, “এতদিন কেউ আমাদের কোনো খোঁজ নেয়নি। আজ অটোরিকশাটি পেয়ে খুব ভালো লাগছে, অন্তত আয়ের একটা পথ হলো। তবে আমার চোখের উন্নত চিকিৎসা খুব দরকার।”
নতুন ঘর ও আয়ের উৎস পেয়ে দুই যুবক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে আজিজুল হকের হাতে অটোরিকশার চাবি ও কাগজপত্র তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ। এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা প্রকৌশলী ফজলে রাব্বী, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, গণসংহতি আন্দোলন বাঞ্ছারামপুরের প্রধান সমন্বয়ক মোঃ শামীম শিবলী , বাঞ্ছারামপুর প্রসক্লাবের সভাপতি মোল্লা মোঃ নাসির আহমেদ, এ সময় বিএনপি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও তারিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “জুলাই আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন, তাদের এই ত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই তাদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের রক্ত আর আর্তনাদের কাছে রাষ্ট্র এবং দেশবাসী চিরঋণী। শহীদরা সম্মান আর আহতরা সুস্থতা চায়; আমরা সেটাই নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই তাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব। ভবিষ্যতেও সরকার জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা করছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।






